উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে পঞ্চম ক্ষেতমজুরের কন্যা গাইঘাটার সুপর্ণা
কাজকেরিয়ার নিউজ ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বাবা দিন মজুর।মা সেলাইয়ের কাজ করে পরিবারকে সাহায্য করেন। দিন আনা, দিন খাওয়া পরিবার। পেটের টানে মাকে সেলাইয়ের কাজে প্রতিদিনই সাহায্য করতে হয় মেয়ের। এরকমই একটি পরিবার থেকে এবার উচ্চ মাধ্যমিকে পঞ্চম স্থান অধিকারী গাইঘাটার সুবিদপুর গ্রামের মেয়ে সুপর্ণা খাতুন। আলি হোসেন আর নার্গিস বিবির সন্তান সুপর্ণা। মাধ্যমিকে বেড়ী গোপালপুর আদর্শ বিদ্যালয় থেকে প্রায় ৮৪ শতাংশ নম্বর পেয়ে পাশ করলেও স্বপ্নেও ভাবেনি উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম পাঁচের মধ্যে ঠাঁই করে নেবে সামান্য ক্ষেতমজুরের সন্তান।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন বাড়ি হলেও দারিদ্র্যের চিহ্ন কিন্তু লুকোতে পারেনি। কোন রকমে ইঁটের একটি বাড়ি তোলা হলেও আজ পর্যন্ত তার জানলা বসেনি। ওই একটি ঘরে বসেই নিবিড় পড়াশুনার মধ্য দিয়ে সুবিদপুর এর একটি সংখ্যালঘু পরিবারের মেয়ে সুপর্ণা ইতিহাস তৈরি করেছে। একাগ্রতা, নিজের উপর বিশ্বাস আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসা ওকে আজ উচ্চমাধ্যমিকে সারা রাজ্যে পঞ্চম স্থানে বসিয়েছে।এবারের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় সুপর্ণার প্রাপ্ত নম্বর ৫০০ মধ্যে ৪৯৫। সে বাংলা, এডুকেশন, সংস্কৃত ও জিওগ্রাফিতে ১০০ তে ১০০ পেয়েছে। তাঁর সাফল্যে উদ্বেল ওর প্রতিবেশীরা।

দরিদ্র এই মেয়েটির পড়াশোনা নিয়ে বেশ ভাবিত প্রতিবেশীরা। তাঁর সাফল্যে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছেন ওর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা সহ শিক্ষক মহলের অনেকে। আজ শিক্ষক-শিক্ষিকাদের একটি দল দুঃস্থ মেধাবী ছাত্রী সুপর্ণার বাড়ি পরিদর্শন করেন। মূলত গোবরডাঙা শিক্ষক সমাজ এবং এ বি টি এর পক্ষ থেকে আজ সুপর্ণার সঙ্গে দেখা করে তাঁকে সম্বর্ধিত করা হয়। শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে মেধাবিনী সুপর্ণার হাতে পাঁচ হাজার টাকা নগদ তুলে দেন প্রধান শিক্ষক অশোক পাল। এছাড়া প্রাক্তন এবিটিএ নেতৃত্ব এবং অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কার্তিক বিশ্বাস ছাত্রীকে সহায়তা করেন।

সবার সহযোগিতা নিয়ে সুপর্ণা দারিদ্র্যের এই বাধাকে অতিক্রম করে আগামী দিনে ভূগোলের অধ্যাপিকা হতে চান। আমরা সবাই মিলে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারি, সংখ্যালঘু পরিবারের এই পিছিয়ে পড়া মেয়েটির স্বপ্নকে পূরণ করতে।

